ধর্ম

অগাষ্ট 8th, 2011

From daily amardesh

শরীফ মুহাম্মদ
আজ মাহে রমজানের পঞ্চম দিন। দিন শেষে আমরা ইফতার করব। এরপর রাতের শেষভাগে আবার আগামী দিনের রোজার নিয়তে সাহরি খাব। ইফতার ও সাহরির মাঝে (রাতের অংশে) বৈধ সব খানাপিনা করাই আমাদের জন্য জায়েজ। এই সাহরি ও ইফতার হচ্ছে রোজা শুরু ও শেষের দুটি খাবার-উপলক্ষ বা আনুষ্ঠানিকতা। কিন্তু এ আনুষ্ঠানিকতা দুটির সারবত্তা কেবল মানবীয় প্রয়োজনীয়তা পূরণের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। অর্থাত্ রোজা শুরুর আগ মুহূর্তে সর্বশেষ সময়ে কিছু খেয়ে নেয়া আর রোজার শেষে প্রথম সুযোগেই কিছু খাবার-পানীয় গ্রহণ করা আমার নিজের জন্যই প্রয়োজন—অনুভূতি ও প্রেরণা এমনটি না হওয়া সমীচীন।
বরং সাহরি ও ইফতার খাওয়া স্বতন্ত্র ইবাদত। এই ইবাদত দুটি পালন
করার মাঝে বহু ফজিলত ও তাত্পর্য রয়েছে। সাহরি খাওয়া সম্পর্কে হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে—‘আমাদের এবং আহলে কিতাবদের রোজার মাঝে পার্থক্য হলো, আমরা সাহরি খাই, ওরা সাহরি খায় না।’
হাদিস শরিফে আরও আছে, তোমরা সাহরি খাও, কেননা সাহরি খাওয়ার মাঝে রয়েছে বরকত। এক ঢোক পানি কিংবা এক লোকমা খাদ্য দিয়ে হলেও সাহরি খেতে উত্সাহিত করা হয়েছে হাদিসে। প্রখ্যাত ইসলামী তাত্ত্বিকদের আলোচনায় পাওয়া যায়, সাহরি খাওয়ার মাধ্যমে নবীজীর (সা.) সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হয়, রোজা রাখার শক্তি অর্জিত হয় এবং শেষ রাতে জাগ্রত হওয়ার সুযোগে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপযোগী ইবাদতে নিমগ্ন হওয়া যায়। হাদিস শরিফে নির্দিষ্ট সময়ে ইফতার করার জন্যও বহু ফজিলতের বর্ণনা বিদ্যমান। হাদিসে রয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ দ্রুততার সঙ্গে ইফতার করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। রাসুলে কারিম (সা.) আরও এরশাদ করেছেন, ‘আমার উম্মত ততদিন পর্যন্ত অবশ্যই সুন্নতের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে, যতদিন পর্যন্ত তারা ইফতার করার জন্য নক্ষত্র উদয়ের অপেক্ষা না করবে।’ মূলত আগের যুগে যেসব সম্প্রদায়ের ওপর রোজা ফরজ ছিল তারা ইফতার করতে বিলম্ব করায় ইফতারের ফজিলত থেকে বঞ্চিত হতো। এই উম্মত যেন সে বঞ্চনার শিকার না হয়—বিভিন্ন হাদিসের মাধ্যমে নবীজী (সা.) সেদিকেই সবাইকে সতর্ক করেছেন। সাহরি খাওয়ার সময় রোজার নিয়ত থাকতে হবে। নিয়ত মুখে উচ্চারণ করে অথবা আরবিতে করা জরুরি নয়।
যথাসময়ে সাহরি ও ইফতার করার মানে হচ্ছে নবীয়ে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নীতি অনুসরণ করা, আল্লাহর দেয়া বিধানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা। তাই আসুন, অভ্যস্ততা কিংবা আহার ও পানের প্রয়োজন পূরণ কিংবা তৃপ্তি লাভের মানসিকতার পরিবর্তে আল্লাহর হুকুমের সামনে আত্মসমর্পণের যিকির নিয়ে সাহরি-ইফতার করি।


ব্লগার সম্পর্কে

DISHAR





১ টি মন্তব্য


  1. উহা , আমি যে কি পারি সেটা আমি নিজেই জানিনা



মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অবশ্যই লগিন করতে হবে