ইসলামের ইতিহাসে হযরত আলী (ক.) এর প্রাধান্যের কারণ

হযরত আলী (কঃ) হচ্ছেন পাক পাঞ্জাতানের একজন। তাঁর জন্ম পবিত্র কাবা ঘরে, প্রথম দর্শন রাসূল (সাঃ) এর মুখ । প্রথম খাদ্য রাসূল (সাঃ) এর রসনা (থুথু)। তিনি সর্বদা রাসূল (সাঃ) এর সাথে ছিলেন। ১০ বৎসর বয়সেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং বিশ্বের প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীর মর্যাদা লাভ করেন। রাসূলের (সাঃ) সহযোগী সার্বক্ষনিক দেহ-রক্ষক হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তিনি রাসূলের (সাঃ) পরিবারে লালিত-পালিত হন এবং রাসূলের (সাঃ) পরিবারের সদস্য ছিলেন। তার মর্যাদা সম্পর্কে বিশ্ব নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) বলেছেনঃ-

আমি জ্ঞানের শহর, আলী তাহার দরজা।
আমি হেকমত বিদ্যার ঘর আলী তার দ্বার।
কোন মোনাফেক আলীকে ভালবাসে না, কোন মুমিন আলীকে ঘৃনা করেন না।
যে ব্যক্তি আলীকে গালী দেয়, সে আমাকে গালী দেয়; যে আমাকে গালী দেয়, সে আল্লাহকে গালী দেয়।

আরো অনেক হাদিস রয়েছে আলী (আঃ) সম্পর্কে যা পাঠকগণ বিভিন্ন হাদিস কিতাব হতে সংগ্রহ করতে পারেন ।

আল্লাহ হযরত আলী (আ)কে একজন মহাবীর “শের-এ-খোদা” এবং আদর্শ মানুষ হিসেব সৃষ্টি করেছেন। কারো কারো মতে কুরআনে হযরত আলী (আঃ) সম্পর্কিত ৩০০ আয়াত নাজেল হয়েছে। যেমন-

“হে ইমানদারগণ! আনুগত্য কর আল্লাহর, আনুগত্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যে উলিল আমর (যারা কর্তৃত্বশীল) তাদের।” ৪:৫৯।

“হে নবী পরিবার, আল্লাহ তো কেবল তোমাদের নিকট থেকে অপবিত্রতা দূর করতে চান এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে চান” ৩৩:৩৩।

“ওহে রাসূল! আনপার প্রতিপালকে পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পরিপূর্ণরূপে মানুষের কাছে পেৌছে দিন। যদি আপনি এরূপ না করেন, তবে আপনি তার দেয়া নবুওয়াতির দায়িত্বের কিছুই পালন করলেন না।” ৫:৬৭ ।

হযরত আলী (আঃ)কে প্রশংসা করতে গিয়ে তাঁর সকল মানব কল্যাণকর গুনাবলী, আল্লাহ এবং রাসূলের প্রতি প্রেম মূল্যায়ন করে প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁকে প্রথম হিসেব ধরা হয়েছে:-

তিনি ওয়ান Number ONE

তিনিই প্রথম এবং একমাত্র ব্যক্তি যিনি কাবা ঘরে জন্মগ্রহণ করেছেন।
তিনিই প্রথম (রাসূলের (সাঃ) পর) নামায প্রতিষ্ঠা করেছেন।
তিনিই প্রথম রাসূলের (সাঃ) অনুগত্য স্বীকার করছেন।
তিনিই প্রথম নিজেকে জিহাদের জন্য সমর্পণ করেছেন।
তিনিই প্রথম রাসূল (সাঃ) প্রতিষ্ঠিত ধর্মের বানী লাভ করেছেন।
তিনিই প্রথম মহাগ্রন্থ পবিত্র কুরআন সংকলন করেছেন।
তিনিই প্রথম হিজরতের রাতে রাসূলের (সাঃ) বিছানায় মৃত্যুর ঝুকি নিয়ে ঘুমায়েছেন।
তিনিই প্রথম, রাসূলের (সাঃ) অনুপস্থিতিতে সকল যুদ্ধের কমান্ডার নিযুক্ত হয়েছিলেন।
তিনিই প্রথম যাকে রাসূল (সাঃ) ‍ “দ্বিতীয় হারুন” উপাধি দিয়েছিলেন।
তিনিই প্রথম রাসূল (সাঃ) এর উত্তরাধিকারী মনোনয়ন পেয়েয়েন।
তিনিই প্রথম যাকে রাসূল (সাঃ) ‘মাওলা’ হিসেবে অভিষিক্ত করেছেন।

হযরত উমর (রা) হযরত আলী (আঃ) সম্পর্কে বলেছিলেনঃ আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ফয়সালাকারী আলী (রা)। এমনকি রাসুল (সা) বলেছেনঃ ‘আকদাহুম আলী’ তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিচারক আলী। তাঁর সঠিক সিদ্ধান্ত লক্ষ্য করে হযরত উমর একাধিকবার বলেছেনঃ ‘লাওলা আলী লাহালাকা উমার’ অর্থাৎ ‌আলী না হলে উমর ধংব্ব হয়ে যেত।

সর্বপরি আল্লাহ তায়ালা আলী (আঃ) এত বিবেক বুদ্ধি দিয়েছিলেন যে, তা যদি বিশ্বের সকল মানুষের মধ্যে বিতরন করা যেতো তাহলে সকল নির্বোধ এবং বোকারা বুদ্ধিমান হয়ে যেত। তাঁর বুদ্ধির অসংখ্য প্রসংশা আরো আছে। চক্রান্তকারীগণ তাঁর প্রশংসা ছাপিয়ে রেখেছে ঈর্ষায়। তারপরো তাঁর যতটুকু আমরা জানতে পেরেছি। ততটুকু বর্তমান নামধারী মুফতী-মাওলানারা প্রচার করছেন কী না তা ভাবার বিষয়। প্রাইয় লক্ষ করলে দেখা যায়- বাংলাদেশের বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে অন্যান্য সাহাবীদের যেভাবে প্রসংশা করা হয় তার কিঞ্চিৎ পরিমানও আলী (আঃ) প্রশংসা করা হয় কি? বর্তমান যামানার উচ্চ পর্যায়ের ইসলামী কবি এবং চিন্তাবিদ আল্লামা ইকবাল আলী (আঃ) এর প্রশংসা করেন বলে কেউ তাকে প্রশ্ন করেছিল- আপনি এত আলী (আঃ) প্রসংশা করেন কেন? আপনি কি শিয়া হয়ে গেছেন? তখন আল্লামা ইকবাল বলেছেন- তাঁর প্রশংসা আল্লাহ ও তার রাসূল (সাঃ) করছেন। আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ) যদি শিয়া হয়ে থাকে তাহলে আমিও শিয়া। [[এ লেখাটি পড়ে অনেক্ই না বুঝে আমাকে শিয়া বলে চালিয়ে দিবে; যারা এ রূপ ধরণা করবেন, তাদের সংক্ষেপে বলে রাখছি যে, শিয়ারা কিন্তু আধ্যাত্মিক বিষয় বিশ্বাস করে না, আর আমি শরিয়ত সংযোগে আধ্যাত্মিকতায় পূর্ণ বিশ্বাসী।]]

পছন্দের পোষ্টে যোগ করুন
ব্লগার আশেক মুর্শেদ?s website" rel="external">আশেক মুর্শেদ লিখেছেন সবার ব্লগের জন্য এই লেখাটি , ব্লগার আশেক মুর্শেদ সবার ব্লগের জন্য মোট ব্লগ লিখেছেন ৪ টি এবং মন্তব্য করেছেন 5 টি , তার বিষয়ে জানতে এবং অন্যান ব্লগ গুলো দেখতে ব্লগার আশেক মুর্শেদ?s website" rel="external">আশেক মুর্শেদ এর প্রোফাইল দেখুন ।

এই ব্লগ পোষ্ট টির সকল বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই ব্লগার আশেক মুর্শেদ এর, এবং লেখাটির নৈতিক ও আইনগত দায়দায়িত্ব তাহার, এবং সকল মন্তব্যের দায়দায়িত্ব উক্ত মন্তব্যকারীর , সবার ব্লগ কর্তপক্ষ কোনোভাবেই দায়ী থাকবে না।

লেখাটি আলোচনা, ধর্ম, ব্যক্তিত্ব বিভাগে প্রকাশিত হয়েছে

১৪ মন্তব্য রয়েছে “ইসলামের ইতিহাসে হযরত আলী (ক.) এর প্রাধান্যের কারণ ব্লগ টি তে

  1. হৈমন্তী বলেছেন : ডিসেম্বর ১০, ২০১১ at ৮:২০ অপরাহ্ন

    ধর্ম নিয়ে পোষ্ট সঠিক কোথায় ভুল কোথায় খুজতে যাইনা। তাই পোষ্ট পড়লেও কিছু বলছি না। পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ।

  2. সৌরভ বলেছেন : ডিসেম্বর ১০, ২০১১ at ৮:২৮ অপরাহ্ন

    শেয়ার করার জন্য ধন্য ++

  3. গোধুলীর সূর্য বলেছেন : ডিসেম্বর ১০, ২০১১ at ৯:১৬ অপরাহ্ন

    ধন্যবাদ পোষ্টের জন্য

  4. মাসুদ খুলনা বলেছেন : ডিসেম্বর ১০, ২০১১ at ৯:২৯ অপরাহ্ন

    *রাসূল (সাঃ) শিয়া ছিলেননা, তিনি আল্লাহর দেখান সত্য পথের উপর অধিষ্ঠিত ছিলেন। না তিনি সুন্নি, না শিয়া, না কাদিয়ানি, না হাম্বলি,না শাফেয়ী ছিলেন। কথাটায় মারাত্মক মিসটেক আছে।
    *যে শিয়া , সুন্নির কথা বলা হয় তা আমরা পরিবর্ধিত করেই করেছি।
    *-কোনভাবেই রাসুল [স] কে এভাবে লেবেলিংএর বেয়াদবি আমাদের করা উচিত নয়।
    * কোনকিছুর বাড়াবাড়ি ঠিক নয়, যেমনটা শিয়ারা করে থাকে। আমি পরে শিয়াদের আকীদা সম্পর্কে পোষ্ট দিব, উদা : তারা আবুবকর [র], উমর [র], উসমান [র] কে তারা অবৈধ মনে করে একমাত্র আলী [র] ছাড়া। এদের কিছু উপদল বিশ্বাস করে আল্লাহ হযরত আলী [র] এর নিকটে ্হী প্রেরন করেন, কিন্তু তা ভূলক্রমে জিব্রাইল [আ] ভূলক্রমে মুহম্মদ [স] কে দেয়, [নাউযুবিল্লাহ] এজন্যে তারা জিব্রআলিকেও অভিশাপ দেয়।
    * সবই বাড়াবাড়ি, তাজিয়ার নামে যে নিজের শরীরের রক্তারক্তি, তা আল্লাহর নির্দেশের অমান্য বই কিছু নয়, কেননা, কারন ব্যতীত নিজের অং্গকেও কষ্ট দেয়া যাবে না।

    • আশেক মুর্শেদ বলেছেন : ডিসেম্বর ১১, ২০১১ at ৭:৩৩ অপরাহ্ন

      আপনার কথাটি সঠিক যে, *রাসূল (সাঃ) শিয়া ছিলেননা, তিনি আল্লাহর দেখান সত্য পথের উপর অধিষ্ঠিত ছিলেন। না তিনি সুন্নি, না শিয়া, না কাদিয়ানি, না হাম্বলি,না শাফেয়ী ছিলেন।” উক্ত কথার ভাব আপনি অনুধাবন করুন। কথাটি হয়েছিল প্রশ্নকারী ও আল্লামা ইকবাল মধ্যে আলোচনা। আর একটি কথা- শিয়ারা তো মুসলিম নয়ই তার একটা কারণ- তারা কোন আধ্যাত্মবাদ বিশ্বাস করে না। অসংখ্য প্রমাণ আছে যে- শিয়ারা আলী (আ)-এরও অনুগত নয় কিন্তু তারা বলে যে, তারা আলী (আ) এর দল। কারণ- তাদেরকে তাঁর সামনে থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল; ফলে তারা খারিজি। এছাড়া তারা নিজ দেহ ক্ষত করে ভালবাসার নমূনা দেখায়; যা মোটেও বাঞ্চনিয় নয়; যেমন- কাঁচা প্রেমিক/প্রেমিকারাই তার প্রেয়সীর জন্য হাত, বুক, ইত্যাদি ক্ষত করে এবং রক্ষ দিয়ে চিঠি লিখে ভালবাসার প্রমান দেয়ার চেষ্টা করে। সর্বপরি- নবী পরিবার পাকপাঞ্জাতন তথা আহলে বায়েত এর মহব্বতের কথা কুরআন থেকে প্রতিষ্ঠিত। আউলিয়াগণসহ সত্যিকারে মুসলিম জনতা আহলে বায়েতকে ভালবাসেন। সত্য কথা যে বলবে তারা মুসলমান হয়; শিয়া হয় না। আর কেউ যদি শিয়া হয় তারা তো মুসলাম থাকে না।ধন্যবাদ।

  5. মাসুদ খুলনা বলেছেন : ডিসেম্বর ১০, ২০১১ at ৯:৩২ অপরাহ্ন

    ইসলামে ভাগাভাগি শুরু হয় সুফিজম থেকেই। আশা করি সুফিজম ধারার সাথে মিলটা পাবেণ্

  6. মাসুদ খুলনা বলেছেন : ডিসেম্বর ১০, ২০১১ at ৯:৩৩ অপরাহ্ন

    ‌আর হাদিসের জাল- জইফ, দুর্বল হয়ে থাকে, তদুপরি রেফারেন্স দেয়া উচিত ভাই,

  7. মাসুদ খুলনা বলেছেন : ডিসেম্বর ১০, ২০১১ at ৯:৩৮ অপরাহ্ন

    ****সর্বপরি আল্লাহ তায়ালা আলী (আঃ) এত বিবেক বুদ্ধি দিয়েছিলেন যে, তা যদি বিশ্বের সকল মানুষের মধ্যে বিতরন করা যেতো তাহলে সকল নির্বোধ এবং বোকারা বুদ্ধিমান হয়ে যেত।****
    এটার রেফারেন্স কি? তাহলে কি আর সাহাবা বা আর খলিফারা ভূল ছিলেন? নবীজি কি কি তাহলে ভূল করেছিলেন উত্তরসূরী চিনতে?
    ধর্মীয় বাছবিচার করতে গেলে কখনই অনূভূতিপ্রবন হওয়া উচিত নয়, বরং যুক্তিপূর্ন হওয়া উচিত।

    • আশেক মুর্শেদ বলেছেন : ডিসেম্বর ১২, ২০১১ at ৬:৩৭ অপরাহ্ন

      ****সর্বপরি আল্লাহ তায়ালা আলী (আঃ) এত বিবেক বুদ্ধি দিয়েছিলেন যে, তা যদি বিশ্বের সকল মানুষের মধ্যে বিতরন করা যেতো তাহলে সকল নির্বোধ এবং বোকারা বুদ্ধিমান হয়ে যেত।****
      এটার রেফারেন্স হচ্ছে- হযরত উমর (রা) হযরত আলী (আঃ) সম্পর্কে বলেছিলেনঃ আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ফয়সালাকারী আলী (রা)। এমনকি রাসুল (সা) বলেছেনঃ ‘আকদাহুম আলী’ তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিচারক আলী। তাঁর সঠিক সিদ্ধান্ত লক্ষ্য করে হযরত উমর একাধিকবার বলেছেনঃ ‘লাওলা আলী লাহালাকা উমার’ অর্থাৎ ‌আলী না হলে উমর ধংব্ব হয়ে যেত। রাসূল প্রেমিক সাহাবারা ভুল হবেন কেন? তাদের উপর আল্লাহ রাজিখুশি।

  8. পান্থ বলেছেন : ডিসেম্বর ১০, ২০১১ at ১০:৫৪ অপরাহ্ন

    ধর্ম নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না।

  9. রনি বলেছেন : ডিসেম্বর ১১, ২০১১ at ১:১৩ পুর্বাহ্ন

    মনে হয় এ রখম

  10. ইচঁড়ে পাঁকা বলেছেন : ডিসেম্বর ১১, ২০১১ at ১১:০৯ পুর্বাহ্ন

    শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

ব্লগটির বিষয়ে মন্তব্য লিখুন