না, আর এসব ভেবে লাভ নেই, অর্থহীন
ভাবনায় মগ্ন থেকে করছি ঘুম নষ্ট;
শুয়ে পড়বই এবার - সারাদিনের যাপিত ক্লান্তি
ভাবনার কাছে পরাজিত হতে হতে ক্লান্ত,
তাকে একটু স্বস্তি দিতেই হবে।
কিন্তু এ কি? এ কোন ঘাতক শব্দ বাজলো কানে?
নিমিষেই ছিনিয়ে নিয়ে গেলো আমার তৃষিত মনকে
আর এক মনের কাছে, যার দরজা এখনো খুলতে পারি নি।
বেলকনিতে গিয়ে দাড়াতে না দাড়াতে কয়েকটি হিমশীতল ফোটা
আমাকে শুদ্ধ করে নিয়ে স্বাগত জানালো আর এক জগতে।
নিচে দেখলাম অন্ধকার, শুধু রাস্তার সোডিয়াম লাইটের
আবছা আলোতে দেদীপ্যমান বৃষ্টিফোটা গুলোর ক্ষনস্থায়ী জীবন
আমাকে জানাতে লাগলো যে, এখন কি ঘুমোবার সময়,
তোমার সঙ্গীকে নিয়ে চলে আসো আমাদের কাছে,
সবাই মিলে জলকেলি করতে করতে হারিয়ে যাই।
সঙ্গী! হৃদয়ের গভীর ক্ষতটা আর একবার জেগে উঠলো,
মনে পড়ে গেলো আমার হারানো স্বত্তার কথা,
যা এখন আর এক জনের কাছে তার অজান্তে বন্দী।
ক্ষতটা পরীক্ষা করার জন্য বুকে হাত দিলাম, কেমন যেনো
ভেজা ভেজা লাগলো, চেয়ে দেখি বৃষ্টির ঝাপটায় আমি
এক পাক-পবিত্র মানুষ হয়ে উঠেছি।
আর ঘুমানো হলো না, বৃষ্টিতে ভিজে গেছে ঘুম,
আর ঘুমাচ্ছন্ন চোখ দিয়ে পড়ছে বৃষ্টি।
বাইরের বৃষ্টি, চোখের বৃষ্টি, হৃদয়ের বৃষ্টি-
এত বৃষ্টি যেখানে আমাকে আপন করে নিয়েছে,
সেখানে আর কোনো ভাবনা, আর কোনো রক্তক্ষরন
পারে কি বড় হতে? হয়তো না।
কিন্তু . . . থাক এসব।
এখন ঘুমহীন চোখের বৃষ্টির সাথে বাইরের
বৃষ্টির সংযোগ খুঁজতে ব্যস্ত আমার মনের বৃষ্টি;
আর আমি ভেজা ঘুম নিয়ে
অপেক্ষায় আছি আর একটি বৃষ্টির
যা আমার স্বত্তাকে ফিরিয়ে দেবে।

